নীলা তুমি শুনতে পারছো

নীলা তুমি শুনতে পারছো? হ্যালো, হ্যালো। তবুও ওপাশ থেকে কোনো শব্দ আসছে না। আমি জানি এটা নেট প্রবলেমের কারনে হচ্ছে না। বরং নীলা নিজ থেকেই কথা বলছে না। টুত টুত টুত…. – শিট। কেটে দিলো। কি করে বোঝাই এই মেয়েকে যে, আমি কতোটা ভালোবাসি ওকে। সারারাত কতো কষ্টের মধ্যে কাটিয়েছি ওর জন্য। নীলা কি সেটা বুঝতে পারবে না কখনো? আরোও কয়েকবার ট্রাই করলাম। রিং হচ্ছে রিসিভ করছে না। ৫/৬ বার কল করার পর যখন ধরল না তখন একটা মেসেজ করলাম। _” নীলা, প্লিজ একটাবার ফোনটা রিসিভ করো। শুধু একটাবার প্লিজ। ” মেসেজ দেয়ার কিছুক্ষণ পর আবার কল করলাম। এখন ২/৩ বার রিং হওয়ার পর রিসিভ করল। – হ্যালো, তুমি শুনতে পারছো। একটা বার কথা বলো প্লিজ।

কিছুক্ষণ নিরব থাকার পর। – কি আর বলবে তুমি? বাসর রাতের গল্প শুনাবে তাই না। [স্পষ্ট কান্নার শব্দ ভেসে আসছে ] – প্লিজ কেঁদো না। আমার কথাটা শুনো প্লিজ। ওপাশে নীলা ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাঁদছে। – দেখো লক্ষিটি কেঁদো না প্লিজ। – চুপ!! একদম আমাকে ইম্প্রেস করার চেষ্টা করবে না। – আচ্ছা, অন্ততপক্ষে কান্নাটা থামিয়ে আমার কথাটা শুনো। নীল কান্না থামাল। তবুও ফুফানো শোনা যাচ্ছে। – নীলা, আমি এই বিয়েটা আমার নিজের ইচ্ছেতে করিনি। – ওও ভালো কথা তারপর…। – বিশ্বাস করো আমি আম্মুর কথা রাখার জন্য এই বিয়েতে রাজি হয়েছি। – বাহ, বেশ তো। বিয়ে করে ফেলেছ অথচ বিয়েতে তোমার মত ছিল না। গল্পটা বেশ মানিয়েছো। আগে তো তুমি বোকা-সোকা ছিলে এখন বেশ চালাক হয়ে গেছো। – বিশ্বাস করো প্লিজ। আমি শুধু আম্মুর কথা রাখার জন্যই বিয়েটা করেছি। কাকে করেছি জানো?

কাকে আবার মিরা নামের একটা মেয়েকে। – মিরা কে জানো? – কে আবার তোমার সাথে যার বিয়ে হয়েছে। [কাঁদতে কাঁদতে বলল] – আরে চুপ করো। [ধমক দিয়ে বললাম] নীলা কোনো কথা বলল না। তবে কান্নার বেগ বাড়তেই থাকল। – মিরা আমার ভাবী। আমার বিয়েটা ভাবীর সাথেই হয়েছে। – মা মা মানে….। – মানে, ভাবী প্রেগন্যান্ট। আর ভাইয়া ৪/৫ মাস থেকে নিখোঁজ। এই সময় ভাবীকে সাপোর্ট দেয়া জরুরি। ভাইয়ার নিখোঁজ হওয়ায় ভাবী একেবারেই ভেঙে পড়েছিল। তাই আম্মু আমাকে বিয়ের কথা বললে আমি মানা করতে পারিনি। মানা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু আম্মু কোনো কথা বলতে নিষেধ করেছিল। – মিরার সাপোর্ট এর জন্য তোমার আম্মু তোমাকেই বেছে নিলো। আর কাউকে পেলো না।

আর তুমিও থৈথৈ করে বিয়ের জন্য রাজি হয়ে গেলে। [কান্না কন্ঠে ] – নীলা,বোঝার চেষ্ঠা করো। আমি আম্মুর চাপে বিয়েটা করেছি। – সেটাতো বুঝলাম। কিন্তু, কাল রাতে যে, তোমাদের বাসর রাত ছিল। উঁহু উহু [কাঁদতেই থাকল ] – আরে চুপ করো। কিসের বাসর রাত? [বিরক্ত হয়ে বললাম ] – তার মানে তোমাদের মাঝে কিছু হয়নি? – না। – আমি বিশ্বাস করি না। তোমারা ছেলদের সামনে একটা বিয়ে করা বউ থাকবে আর তোমরা কিছু করবে না। এটা অসম্ভব। – আচ্ছা, তোমার যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে তুমি মিরার সাথে দেখা করতে পারো। – না মানে…। – কাল তোমার সময় হবে? যদি সময় থাকে তাহলে কফি শপে এসো। মিরার সাথে মিট করলেই বুঝতে পারবে।

Check Also

অনেক সময় ধরে চৌড়হাস মোড়ে ঘুরাঘুরি করলাম

অনেক সময় ধরে চৌড়হাস মোড়ে ঘুরাঘুরি করলাম । পশ্চিম দিকে মুখ করে একটা প্লেন দাঁড়িয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.