ক্যাবল ছাড়াই দেখা যাবে দেশ-বিদেশের সব টিভি চ্যানেল, কাল উদ্বোধন

ক্যাবল ছাড়াই দেখা যাবে- দেশে ক্যাবল ছাড়াই টিভি দেখার ডিটিএইচ সুবিধা উদ্বোধন হচ্ছে। ‘আকাশ ডিটিএইচ’ নামে এই সুবিধা আনছে বেক্সিমকো। কাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এই সেবার উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান শায়ান এফ রহমান।

কেবল সংযোগ ছাড়াই স্যাটেলাইট টিভি দেখার উন্নত প্রযুক্তি হচ্ছে ডাইরেক্ট টু হোম বা ডিটিএইচ। এ প্রযুক্তিতে গ্রাহক সরাসরি স্যাটেলাইট থেকে অনুষ্ঠান নিজের টিভিতে ডাউনলিংক করতে পারেন।

বেক্সিমকোর আকাশ ডিটিএইচ-এর হেড অব টেকনোলজি আনোয়ারুল আজিম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের সেবা আনতে যাচ্ছে বেক্সিমকো। এতে দেশ-বিদেশের একশোরও বেশি চ্যানেল দেখতে পারবেন গ্রাহকরা। এটি বাংলাদেশের গর্ব বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা দেশে রিয়েলভিউর মাধ্যমে সর্বপ্রথম ডিটিএইচ সুবিধা চালু করেছিলাম। সেটা ছিল একটা পরীক্ষামূলক সেবা। তখনকার চেয়ে আমাদের বর্তমান সেবা আকাশ ডিটিএইচের মান উন্নত।

তাই রিয়েলভিউ ডিটিএইচ-এর সংযোগ মূল্য এবং প্যাকেজের চেয়ে আকাশ ডিটিএইচের দাম কিছুটা বাড়বে। তবে গ্রাহকরা আগের চেয়ে ভালো মানের সেবা ও সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

আনোয়ারুল আজিম আরো বলেন, ‘শুরুতে ব্যবহারকারীদের জন্য একটি প্যাকেজ চালু করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব শ্রেণির ব্যবহারকারীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্যাকেজ থাকবে। প্রথম পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটে আকাশ ডিটিএইচ-এর সেবা চালু হচ্ছে।

তবে কেউ চাইলে এই তিন শহরের বাইরে বসে ডিটিএইচ সেবা নিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগে ডিটিএইচ স্থাপন, সংযোজন এবং ব্যবহার করতে হবে। তবে শিগগিরই সারা বাংলাদেশে বিক্রি ও সেবা কার্যক্রম সেবা চালু হচ্ছে।’

জীবনটা আসলেই স্রোতের প্রতিকূলে চলার মতো: ওবায়দুল কাদের

চিকিৎসা শেষে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, জীবনটা আসলেই স্রোতের প্রতিকূলে চলার মতো। এই শিক্ষা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা শেখ হাসিনার কাছ থেকে পেয়েছি। মৃত্যু পথযাত্রী অবস্থায় শুধু শেখ হাসিনা নাম ধরে ডেকেছিলেন এবং সে সময় আমি তার ডাকেও সাড়া দিয়েছিলাম।’

বুধবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন।

কাদের বলেন, আমার ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরম মমতা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। তিনি একজন মমতাময়ী মা। তিনি সত্যিই মাদার অব হিউম্যানিটি। তার কাছে আমার ঋণের বোঝা আরও বেড়ে গেল।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমার দলের সকল নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যারা হাসপাতালে আমার ওই সময়ে ছুটে এসেছিলেন। ওই সময় আমার মধ্যে আমি ছিলাম না, আমি জানতাম না আমার কী হয়েছে।’

এর আগে সিঙ্গাপুরে দুই মাস ১০দিন চিকিৎসা শেষে বুধবার (১৫ মে) সন্ধ্যা ৫ টা ৫২ মিনিটে ওবায়দুল কাদেরকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিজি ০৮৫ ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এদিকে প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে আগে থেকেই বিমানবন্দরে জড়ো হন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান তারা।

৬৭ বছর বয়সী ওবায়দুল কাদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ছাড়াও শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ সিওপিডিতে (ক্রনিক অবসট্রাকটিভপালমোনারি ডিজিজ) ভুগছেন।

গত ২ মার্চ সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকার বিএসএমএমইউতে ভর্তি হলে এনজিওগ্রামে কাদেরের হৃদপিণ্ডের রক্তনালীতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি ব্লক স্টেন্টিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করেন চিকিৎসকরা।

অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৪ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। ভর্তি করা হয় মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে।

কয়েকদিন চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি হলে গত ২০ মার্চ কার্ডিও থোরাসিক সার্জন ডা. শিভাথাসান কুমারস্বামীর নেতৃত্বে কাদেরের বাইপাস সার্জারি হয়। ছয় দিন পর তাকে আইসিইউ থেকে স্থানান্তর করা হয় কেবিনে।

এক মাস পর হাসপাতাল ছাড়লও চিকিৎসকরা ‘চেকআপের জন্য’ আরও কিছু দিন তাকে সিঙ্গাপুরে থাকার পরামর্শ দেন। এরপর একটি বাসা ভাড়া করে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করেন ওবায়দুল কাদের।